Friday, 7 October 2016

Colombian president Juan Manuel Santos wins nobel peace prize

শান্তি চুক্তি সমর্থন করেননি দেশের মানুষ। কিন্তু শান্তি চুক্তির কারিগর হিসেবে এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। এবং আবারও নোবেলে শান্তি পুরস্কার নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল।
তবে নোবেল কমিটি জানিয়েছে, তারাও ভোটের ফলাফলে শঙ্কায় রয়েছে। তবে তাদের আশা, ভোটের ফলাফল পুরস্কার প্রক্রিয়াটিতে কোনও ব্যাঘাত ঘটাবে না। বরং এই পুরস্কার প্রক্রিয়াটিকে আরও জোরালো করবে। 
প্রায় ৫০ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে কলম্বিয়ায়। অতি-বামপন্থী ‘ফার্ক’ গেরিলারা কলম্বিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত ছিল। যে গৃহযুদ্ধ প্রায় দু’লক্ষ ২০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়েছে। বাস্তুচূত্য হয়েছেন ৬০ লক্ষ নাগরিক। কলম্বিয়া সরকারকে এই যুদ্ধে টিঁকিয়ে রাখার জন্য বরাবরই সক্রিয় ছিল আমেরিকা। দীর্ঘ দিন ধরে কলম্বিয়াকে প্রচুর অস্ত্রও বিক্রি করেছে আমেরিকা। অস্ত্র বিক্রির তালিকায় কলম্বিয়া ছিল প্রথম সারিতে।
দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে যুদ্ধে মাঝে-মাঝে ‘ফার্ক’-এর সঙ্গে কলম্বিয়া সরকারের শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়নি। আবার যুদ্ধে ফিরে গিয়েছে কলম্বিয়া। এর পরেও ‘ফার্ক’-এর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পিছপা হননি প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। পরে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। যার পরিণামে হয়েছে শান্তি চুক্তিও।
প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস সেই শান্তি চুক্তি নিয়ে জনগণের মতামতও চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফলাফল মোটেই কাক্ষিত হয়নি। এক কোটি ৩০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে কলম্বিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে তাঁদের মতামত দিয়েছেন। যদিও শান্তি চুক্তির সপক্ষের মতও খুব একটা পিছিয়ে নেই। সেই ফলাফলের কথা নোবেল কমিটির ঘোষণাতেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বারের শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করতে গিয়ে নোবেল কমিটি আবার অশান্তি শুরু হওয়া নিয়ে তাঁদের শঙ্কার কথাও জানিয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট সান্তোস এবং‌ ‘ফার্ক’ গেরিলাদের নেতা রডরিগো লোনডোনো বিষয়টি আবার যুদ্ধের দিকে গড়াতে দেবেন না বলেও আশা প্রকাশ করেছে নোবেল কমিটি। নোবেল কমিটি মনে করেছে, শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট শান্তির বিরুদ্ধে ভোট নয়। শান্তি চুক্তির ধরনটিকে অনেকে অপচ্ছন্দ করেছেন। কারণ, কলম্বিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে আক্রান্ত দেশের পক্ষে খুব সহজে সমাধানে পৌঁছনো হয়তো সম্ভবও নয়। বিশেষ করে এই গৃহযুদ্ধে যাঁরা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, তাঁরাও শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সাহস করে এগিয়ে এসে তাঁরা অত্যাচারের কথা শুনিয়েছেন, জানিয়েছেন। এই শান্তি চুক্তিতে তাঁদেরও ন্যায় বিচার জরুরি। তাই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। এ বারের পুরস্কারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট সান্তোস এবং কলম্বিয়ার জনগণের এই সাহসী প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কমিটির আশা, এই পুরস্কার শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জোরালো করে তুলবে। শান্তির ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছে। ভোটের ফলাফলে আশাহত না হয়ে বরং পুনর্মিলনের দিকেই এগিয়ে যাবে কলম্বিয়া।
যদিও শান্তির নোবেল পাওয়ার পরে আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার উদাহরণও রয়েছে। ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের মধ্যে অস্‌লো শান্তি চুক্তির জন্য ১৯৯৪-এ নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ইয়াসের আরাফত, সদ্য প্রয়াত সিমন পেরেজ এবং ইতজাক রবিন। কিন্তু তার পরে সেই শান্তি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ইরাকে থেকে সেনা ফিরিয়ে এনে ২০০৯-এ শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু সেই ইরাক এখন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ধাত্রীভূমি।
এ ক্ষেত্রে কী হবে, তা ভবিষ্যতই বলবে!

No comments:

Post a Comment